প্রকাশনা জগতের পথিকৃৎ সৈয়দ মোহাম্মদ শফি স্মরণে
মুহাম্মদ শামসুল হক

শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের প্রকাশনা জগতের পথিকৃৎ ও সংস্কৃতি সংগঠক সৈয়দ মোহাম্মদ শফি| ১৯৫১ সালে চট্টগ্রামে প্রকাশনা সংস্থা ‘বইঘর’ এবং ১৯৬৫ সালে ‘শিশু সাহিত্য বিতান’ নামে শিশু গ্রন্থ প্রকাশনী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি| এ দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের খ্যাতিমান লেখকদের বই প্রকাশ, লেখক শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও আতিথেয়তা দিয়ে প্রকাশক হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন তিনি| তাঁর বইঘর থেকে প্রকাশিত ছড়াকার-সাংবাদিক এখলাস উদ্দিন আহমদের ‘অন্য মনে দেখা’ বইটি শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে জার্মানিতে| প্রকাশনা জগতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র স্বর্ণপদক পান সৈয়দ মোহাম্মদ শফি| তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অফসেট পদ্ধতিতে ছাপার কাজও প্রথম শুরু করেন তিনি| সাক্ষাৎকারে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের নানা গল্প শুনিয়েছিলেন এ লেখককে|

সৈয়দ মোহাম্মদ শফির বাবা সৈয়দ নূরুল আলম, মা সৈয়দা চেমন আরা বেগম| দুই ভাই আর দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়| পৈতৃক নিবাস বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামে| তবে জন্ম তাঁর চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে| তাঁর বাবা ১৯২৬ সালে ‘দি আর্ট প্রেস’ নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন, যা চট্টগ্রামে আধুনিক মুদ্রণজগতের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ও সমাদৃত ছিল| সেই ছাপাখানা ও বাসা ছিল একই ভবনে| নিচতলায় ছাপাখানার সঙ্গে কার্যালয় এবং একটি মনিহারি দোকানও ছিল, আর দোতলায় বাসা| সেই বাসায়ই শফির জন্ম ১৯৩৩ সালের ১৩ জানুয়ারি|
শৈশবের গল্প: শৈশব থেকে বেড়ে ওঠার গল্পটি তাঁর নিজের ভাষায় এরকম: ‘শৈশবের স্মৃতি খুব বেশি মনে নেই| আমার যখন বুদ্ধি হতে থাকে তখন অর্থাৎ ১৯৩৬ সালে বাবা কোতোয়ালি থানার কাছে জমি কিনে একতলা বাড়ি করেন এবং সেখানেই ছাপাখানা ও বাসা স্থানান্তর করেন| দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হলে আমাদের চলে যেতে হয় গ্রামের বাড়িতে| বাবা একাই থাকতেন শহরে| যুদ্ধ থেমে অবস্থা কিছুটা স্বfভাবিক হতে থাকলে আমরা শহরে ফিরে আসি| যুদ্ধের সময় আমাদের ঘর থেকে বের হওয়া ছিল নিষেধ| বাসার কাছেই ছিল সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় ও অল্প দূরে সেন্ট প্ল্যাসিডস উচ্চবিদ্যালয়| তবে আমি পড়তাম কলেজিয়েট উচ্চবিদ্যালয়ে| বড় ভাই পড়তেন সেন্ট প্ল্যাসিডস উচ্চবিদ্যালয়ে| যুদ্ধ শেষ হয়ে এলে বিদ্যালয় খোলা হয়| কিন্তু এর মধ্যে সেন্ট প্ল্যাসিডস ও মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় ব্রিটিশ সরকার অধিগ্রহণ করলে নগরীর পূর্বদিক মিয়াখাননগর পোল এলাকার একটি ভবনে মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়| বাবা আমাদের দুই ভাইকে সেখানে ভর্তি করান| তখন পায়ে হাঁটা ছাড়া বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না|
আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় অর্থাৎ শিশুকালেই জীবনে প্রথম বিয়োগান্তক ঘটনার মুখে পড়ি বাবার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে| সেই বেদনাদায়ক স্মৃতি ভুলবার নয়| ওই সময় আমার সম্পর্কের এক মামা তাঁর হাড়ের টিবি রোগে (যক্ষ্মায়) আক্রান্ত হলে বাবা তাঁকে কলকাতা নিয়ে চিকিৎসা ও শুশ্রূষা করেন| একপর্যায়ে বাবাও আক্রান্ত হন একই রোগে| ওই সময় যক্ষ্মা ছোঁয়াচে মনে করা হতো, তাই মা ছাড়া আমাদের কাউকে বাবার কাছে যেতে দেওয়া হতো না| সেবা ছাড়া যক্ষ্মা রোগের তেমন কোনো চিকিৎসাও ছিল না তখন| একসময় কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর বাবা কলকাতায় তাঁর এক পরম শ্রদ্ধেয় হুজুরের কাছে যান পরিবারের সবাইকে নিয়ে| কিন্তু সেখানে বাবার সেরে ওঠার সম্ভাবনা না দেখে আমরা সবাই চট্টগ্রাম ফিরে আসি| এরপর মা আমার এক বোনসহ বাবাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেলেন| মাস দুয়েক পরই এক দিন সকালে আমরা দুই ভাই বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস করছি| এমন সময় প্রধান শিক্ষকের কাছে বাবার অবস্থা খারাপ হওয়ার কথা শুনে আমরা ছাপাখানার কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ছুটে গিয়ে দেখি বাবা আর বেঁচে নেই| শোকের ধকল কাটিয়ে কয়েকদিন পর আমরা শহরে চলে আসি পড়ালেখার জন্য| আমাদের দেখাশোনা করতেন আমার এক মামা, ছাপাখানার লোকজন ও বাসার পরিচারকেরা| বাবা মারা যাওয়ার আগেই একটি অসিয়তনামার মাধ্যমে ছাপাখানা ও অন্যান্য সম্পত্তি একটি ট্রাস্টি বোর্ডের হাতে দিয়ে যান| ছাপাখানার ব্যবস্থাপক গণেশ চক্রবর্তী ছিলেন বোর্ডের অন্যতম সদস্য| আমাদের মনিহারি দোকানে তখনকার দিনে বিক্রি ছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা| ব্যবস্থাপক হঠাৎ সেই দোকানটি নিয়ে যান ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায়, যার কারণ আমাদের কাছে বোধগম্য হয়নি| মূলত তখন আমরা ছিলাম সেই ব্যবস্থাপকের ওপর নির্ভরশীল|
শিশুকালে একবার হারিয়ে যাওয়ার দশা হয়েছিল| সত্যি সত্যিই হারিয়ে গেলে আমি আজকের প্রকাশনা জগতের সৈয়দ মোহাম্মদ শফি হতে পারতাম কি না সন্দেহ| ওই সময় কদম মোবারক এলাকায় একতলা একটি বাসায় থাকতাম আমরা| দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলেন বলে বাবার সঙ্গে স্থানীয় অনেকের, এমনকি গাড়োয়ানদেরও ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল| বাবা ছাপাখানায় চলে গেলে বাসায় তাঁর অনুপস্থিতিতে আমার কেমন জানি লাগত| ইচ্ছে হতো, তাঁর কাছে ছুটে যাই| আমাকে বলা হতো, বাবা কলকাতা গেছেন| এক দিন সকালে বাসার সামনের দরজা খোলা পেয়ে আমি মা ও ভাই-বোনদের ফাঁকি দিয়ে মনের আনন্দে লাফাতে লাফাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি| তখনকার দিনে এলাকায় ঘোড়ার গাড়িই ছিল একমাত্র যানবাহন| বাসা থেকে বেশ কিছু দূরে আমাকে একা একা পথ চলতে দেখে এক গাড়োয়ানের (ঘোড়ার গাড়িচালক) সন্দেহ হলে তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন—‘তুমি আলম সাহেবের ছেলে না, কোথায় যাচ্ছ?’ আমি কলকাতায় বাবার কাছে যাচ্ছি বললে সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে কোলে করে ছুটতে লাগলেন| যেতে যেতে বললেন, ‘চলো আমি তোমাকে কলকাতায় তোমার বাবার কাছে পৌঁছে দেব|’ এদিকে, বাসায় মা ভাই-বোনসহ আশপাশের লোকজন আমাকে না দেখে পাগল প্রায়| গাড়োয়ান আমাকে নিয়ে মায়ের কাছে তুলে দিয়ে বললেন, ‘ছেলেকে রাজাপুকুর লেনের পাশে পেয়েছি| সে নাকি কলকাতা যাচ্ছে বাবার কাছে|’ মা আমাকে ফিরে পেয়ে সেদিন যেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া মানিককে ফিরে পেয়েছিলেন| তাই সেই গাড়োয়ানের প্রতি আজও আমার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি|’
প্রকাশনা সংস্থা বইঘর প্রতিষ্ঠা: বাবার অকাল মৃত্যু, পারিবারিক নানা সমস্যা ইত্যাদি কারণে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি মোহাম্মদ শফির| বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক প্রতিষ্ঠান ‘দি আর্ট প্রেস’ পরিচালনার দায়িত্ব নেন তাঁর বড় ভাই ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমদ| তবে সার্বিক দেখা শোনা করতে হতো শফিকে| ছাপাখানা থেকে প্রকাশক হয়ে ওঠার ব্যাপারে স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছরের মধ্যে আমি আমার নূ্ন্যতম মেধা ও শ্রম দিয়ে আর্টপ্রেসকে যুগোপযোগী ছাপাখানায় পরিণত করার দিকে মনোযোগ দিই| আমিই প্রথম অফসেট পদ্ধতিতে ছাপার কাজ শুরু করি| একপর্যায়ে ঝুঁকে পড়ি প্রকাশনা শিল্পের দিকে এবং ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠা করি নিজ¯ প্রকাশনা সংস্থা ‘বইঘর’| বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সুচরিত চৌধুরী তখন গল্প লিখতেন ‘সুরাইয়া চৌধুরী’ ছদ্মনামে| প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরই ‘সুরাইয়া চৌধুরীর সেরা গল্প’ নামে গল্পগ্রন্থ বের করি বইঘর থেকে| ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা করি ‘শিশুসাহিত্য বিতান’ নামে আরেকটি শিশুসাহিত্য প্রকাশনী সংস্থা| এর আগে ১৯৬৪ সালে ‘বইঘর’ নামে সৃজনশীল বইয়ের একটি দোকানও করি নিউমার্কেটে| সে সময় কোহিনূর লাইব্রেরি, নিউজফ্রন্ট, কারেন্ট বুক সেন্টার ইত্যাদিও মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত বইয়ের বিপণিকেন্দ্র ছিল| আমার বইঘর উদ্বোধন করেন ড. মুহাম্মদ এনামুল হক| বইঘরের জন্য বই আমদানি করতে আমাকে বিভিন্ন সময় কলকাতায় যাওয়া-আসা করতে হতো| সে সুবাদে অনেক ভারতীয় লেখক-প্রকাশকের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে| বেশ কিছু ভারতীয়, বিশেষ করে কলকাতার লেখকের বইও বইঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে| অল্প কিছু দিনের মধ্যে চারদিক ছড়িয়ে পড়ে বইঘর ও শিশুসাহিত্য বিতানের সুনাম|

যাঁদের বইয়ে সমৃদ্ধ বইঘর: বইঘর ও শিশুসাহিত্য বিতান থেকে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক হবে| প্রকাশনা জগতে জড়িত হওয়ার সুবাদে অনেক লেখক, শিল্পীর সঙ্গে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক| তাঁদের বেশিরভাগই জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত| বইঘর থেকে যাঁদের বই বেরিয়েছে তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন—সুফিয়া কামাল, সৈয়দ মুজতবা আলী, আবুল ফজল, সৈয়দ আলী আহসান, কবির চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, শামসুর রাহমান, ওহীদুল আলম, আল মাহমুদ, মুনীর চৌধুরী, আবদুল হাই, ওয়াহিদুল হক, হাসনাত আবদুল হাই, হাসান আজিজুল হক, বদরুদ্দিন উমর, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সরদার জয়েন উদ্দিন, সুচরিত চৌধুরী, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, শওকত আলী, এখলাস উদ্দিন আহমদ, হায়াত মামুদ, দ্বিজেন শর্মা, আবুল মোমেন, আবুল মনসুর প্রমুখ| এ ছাড়া, ভারতের নীলরতন মুখার্জি, অসীম রায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মিহির সেন, লীলা মজুমদারসহ বেশ কিছু লেখকের বই বেরিয়েছে বইঘর থেকে|
প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে সৈয়দ মুজতবা আলীর পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, পূর্ণেন্দু দস্তিদারের স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম, আবুল ফজলের রেখাচিত্র, এখলাস উদ্দিন আহমদের এক যে ছিল নেংটি ও ছড়ায় ছড়ায় ছন্দ, ওহীদুল আলমের চট্টগ্রামের ইতিহাস, হায়াত মাহমুদের রবীন্দ্রনাথের কিশোর জীবনী| ছড়ায় ছড়ায় ছন্দ বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন অন্নদাশংকর রায় ও আবুল ফজল, প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন| সুফিয়া কামালের প্রথম ছড়ার বইও বইঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে| ঢাকার বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমিই প্রথম প্রকাশনা উৎসবের প্রচলন করি এখলাস উদ্দিনের টাপুর টুপুর বার্ষিকী প্রকাশনা উপলক্ষে| এখান থেকে প্রকাশিত এখলাস উদ্দিন সম্পাদিত মাসিক টাপুর টুপুর ও সৈয়দ শামসুল হক সম্পাদিত রম্য পত্রিকা অন্তরঙ্গ দেশের সাহিত্যমোদীদের মধ্যে বেশ সাড়া জাগায়|

অতিথিপরায়ণ শফি: খ্যাতিমান লেখক শিল্পীদের অনেকেই বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম এলে বই ঘরে উঠতেন শফির বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন| স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এমন অনেকের কথা মনে পড়ছে যাঁরা বিভিন্ন সময় আমার প্রকাশনা সংস্থায় এসেছেন, আমার বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন, থেকেছেনও| সৈয়দ আলী আহসান চট্টগ্রাম এলে প্রায় সময় আমার বাসায় আসতেন, থাকতেন| ঢাকা থেকে বদলি হয়ে এসে প্রথমেই তিনি উঠেছিলেন আমার বাসায়| আমার ঘরে এসেছেন—থেকেছেন পল্লীকবি জসিম উদদীন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কাইউম চৌধুরী, কামরুল হাসান, হাশেম খান, রফিকুন্নবী (রনবী), মুস্তফা মনোয়ার প্রমুখ| জয়নুল আবেদীন ও কামরুল হাসান আমার ঘরে বসে অনেক ছবি এঁকেছেন—আমাকে ও আমার ছেলে-মেয়েদের উপহার দিয়েছেন| এর মধ্যে বেশ কটি এখনো স্মৃতি হিসেবে ঘরের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে| হাশেম খান টাপুর টুপুর বইয়ের প্রচ্ছদসহ পুরো বইয়ের অলংকরণ করেছেন আমার বাসায় থেকে| এ ছাড়া, বাসা আসা সুহৃদদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পী রশিদ চৌধুরী, আবুল বরকত আলবি, শহীদ কাদরী প্রমুখ|
নব্বইয়ের দশকে প্রকাশনা জগৎ থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে আনতে থাকেন মোহাম্মদ শফি| প্রায় চার দশক সগৌরবে ছাপা ও প্রকাশনা শিল্পে দাপিয়ে বেড়ানোর পর নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে বন্ধ করে দেন প্রকাশনার কাজ| এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শফি বলেছিলেন, ‘আমার প্রকাশনা সংস্থাকে আমি খুবই ভালোবাসতাম| কিন্তু ১৯৯০ সালের পর থেকে আমার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়| পর্যায়ক্রমে চোখের অসুখ, হার্টের অসুখ, চোখ ও হার্টের অস্ত্রোপচার ইত্যাদি কারণে প্রকাশনা ব্যবসা গুটিয়ে আনি| ভালো মানের বই প্রকাশ করা, বাজারজাতকরণ, সব কিছুই ভালো মনোযোগ ও পরিশ্রমের বিষয়| আমার প্রকাশনাগুলো ভালোভাবে দেখার জন্য পাঁচ-ছয়জনের একটা দল ছিল| তাঁরা পর্যায়ক্রমে বইয়ের পাণ্ডুলিপি দেখতেন, শেষবার আবার দেখতাম আমি| মনের দিক থেকে পছন্দ না হলে ওই বই বাদ দিতাম| এ ছাড়া, আমি খেয়াল রাখতাম বই যাতে শৈল্পিক সৌকর্যের দিক থেকেও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে|
অপরদিকে ঢাকায় এতগুলো প্রকাশনা সংস্থা তখন ছিল না| উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাও তাঁরা তখন দেখাতে পারেননি| প্রচ্ছদ, মার্জিন, অলংকরণ বাঁধাই, সব কিছুই ছিল যেন দায়সারা গোছের| সম্ভবত এ কারণেই তখনকার শীর্ষ লেখকদের কাছে আমি এবং আমার প্রকাশনা সংস্থা খুবই প্রিয় ছিল| পরবর্তী সময়ে অন্য সকল ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো প্রকাশনা শিল্পেরও তথ্য-প্রযুক্তিসহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে| এতসব সামাল দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব মনে হয়নি| তবে আমার ভালো লাগে যে, আমার প্রকাশনা সংস্থার কাজ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকে প্রকাশনার মান উন্নত করেছেন, এগিয়ে গেছেন সমৃদ্ধির দিকে|’
সামাজিক কাজ: বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সৈয়দ মোহাম্মদ শফি, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন শিল্পী-সাহিত্যিকদের| বিভিন্ন সময় চারুকলা কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্য, জেলা আর্ট কাউন্সিল, ললিতকলা পরিষদ ও শিল্পসাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইত্যাদি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন| এ ছাড়া, বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশন, লায়ন ব্লাড ব্যাংক, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে আজীবন সদস্য হিসেবে থেকে সমাজসেবামূলক কাজ করেছেন|
শিল্পী-সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আনন্দ পেতেন মোহাম্মদ শফি| শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব, মিহির নন্দী, হরিপ্রসন্ন পাল প্রমুখ প্রথিতযশা শিল্পীকে নিজের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন তিনি| প্রয়াত লোকসংগীতশিল্পী শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব তাঁর শিল্পীজীবনে প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মোহাম্মদ শফির কথা স্মরণ করে বলেন ‘এ চাকরি আমাকে জীবিকার সাথে সাথে সংগীতচর্চারও নিশ্চয়তা এনে দিয়েছে|’ গণসঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত হরিপ্রসন্ন পালও লেখকের কাছে বিষয়টি ¯স্বীকার করেছেন| প্রকাশনা ছাড়াও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছেন শফি| ১৯৫৯ সালে আবুল ফজল সংবর্ধনা, ১৯৬১ সালে সেন্ট প্ল্যাসিডস উচ্চবিদ্যালয়ে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী, ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম মুসলিম হলে আবুল ফজল হীরকজয়ন্তী উদযাপনে তিনি ভূমিকা রাখেন|
পারিবারিক জীবন: মোহাম্মদ শফি বিয়ে করেন ১৯৬১ সালে, যশোরের ইতনা গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের একমাত্র মেয়ে নাসিম বানুকে| নগরীর লায়ন সিনেমা হলে তাঁকে পাত্রী দেখানো হয় আর বিয়ে হয় কদম মোবারক এতিমখানার উল্টোদিকে একটি হলে| নাসিম বানুও লেখিকা ছিলেন| তাঁর ঝিঙে তলায় ফিঙে নাচে বইটি তখন ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে| মূলত শফির প্রকাশনাশিল্পে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়াসহ সৃজনশীল সব কাজে তাঁর স্ত্রী বিশেষভাবে প্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন| সহযোগিতা করেছে প্রকাশনা সংক্রান্ত নানা কাজে| এ ছাড়া, তাঁর (শফির) এক ফুফা শ্বশুর আলতাফউদ্দিন আহমদও তাঁকে সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নানাভাবে উৎসাহ দিতেন, পরামর্শ দিতেন|
স্বীকৃতি-পুরস্কার: কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ মোহাম্মদ শফি ব্যক্তিগতভাবে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান নানা রকম সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে| ‘বইঘর’ ও ‘শিশুসাহিত্য বিতান’ ১৯৬৪ সাল থেকে বেশ কয়েক বছরই বইয়ের অঙ্গসজ্জা ও গঠন সৌকর্যের জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে পুরস্কার পেয়েছে| ছড়ায় ছড়ায় ছন্দ বইটি অঙ্গসজ্জা ও গঠন সৌকর্যের জন্য ১৯৬৮ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার পায়| ১৯৭৯ সালে প্রকাশনা জগতে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার তাঁকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র স্বর্ণপদক দেয় এবং একই বছর ইউনেস্কো থেকে শিশুসাহিত্য প্রকাশনার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য তাঁকে জাপান পাঠানো হয়| ১৯৮৪ সালে তাঁর সংস্থা থেকে প্রকাশিত এখলাস উদ্দিন আহমদের অন্য মনে দেখা বইটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে স্বীকৃতি পায় জার্মানিতে| প্রকাশনার ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার জন্য বাংলাদেশ এক্স-ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন সংবর্ধনা দেয় জনাব শফিকে| এ ছাড়া, চট্টল ইয়থ কয়ার আয়োজিত প্রথম একুশ মেলায় স্বর্ণপদক, ২০০১ সালে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর দশম জেলা সম্মেলনে সংবর্ধনা, এচিভমেন্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড, ২০০৬ সালে ১৪ এপ্রিল বর্ষাবিদায় ও বরণ উদযাপন পরিষদ এবং ২০০৭ সালে রোটারি ক্লাব অব সাগরিকা সংবর্ধিত করে তাঁকে|
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন নানা ঘটনা নিয়েও স্মৃতিচারণ করেছিলেন প্রকাশক শফি| সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে সৈয়দ মোহাম্মদ শফি বলেন, ‘একাত্তরের ২৪ মার্চ লালদিঘি মাঠে এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম নামে যে নাটক মঞ্চস্থ হয় তার প্রস্তুতি কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলাম আমি| সেই নাটকের জন্য মহড়া থেকে শুরু করে মঞ্চ করা পর্যন্ত সব কিছুতেই ছিলাম যুক্ত| চট্টগ্রাম শিল্প ও সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার সুবাদে পরিষদের কক্ষে জায়গা করে দিয়েছিলাম নাটক, গণসংগীত ইত্যাদির মহড়ার জন্য| দিয়েছি যন্ত্রপাতি যা ছিল তা-ও| তখন আর্ট কাউন্সিলের কার্যালয় ছিল বর্তমান বাদশা মিয়া সড়কের চারুকলা কলেজের পাশে ছোট একটি একতলা বাড়িতে| সেখানে আয়োজন হতো গানের ক্লাস, চিত্রাঙ্কনের ক্লাস, কবিতা পাঠ ও আলোচনার আসর ইত্যাদি|’
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে তিনি পরিবার দিয়ে খুবই বিড়ম্বনায় পড়েন| একবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও ভাগ্যের জোরে হয়তো ফিরে এসেছিলেন| সেসব স্মৃতি মনে করে পাকিস্তানিদের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করেন তিনি|
নানা কারণে তখনকার আওয়ামী লীগ নেতা এমআর সিদ্দিকীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল| পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা জোরেশোরে শুরু হলে কোনো এক ঘনিষ্ঠজনের মাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, আপাতত শহরে না থেকে যেখানে নিরাপদ মনে হয় সেখানে গিয়ে থাকার জন্য| কারণ মার্চের প্রথমদিক থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকায় সংশ্লিরা ছিলেন শত্রুর তালিকাভুক্ত| তার ওপর শফির বাড়ির গলির পাশের এক বাড়িতে থাকতেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেডিয়ার| আরেক বাসায় থাকতেন একজন কর্নেল| তাই ভয় ছিল যেকোনো সময় বিপদে পড়ার|
এ অবস্থায় যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে তিনি পরিবার নিয়ে নগরীর খাজা রোড দিয়ে কর্ণফুলী নদী এবং শাকপুরার রাইখালী খালের ভেতর দিয়ে বোয়ালখালীর গ্রামের বাড়ি চলে যান| কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে সেখানেও অবস্থা খারাপ হয়ে উঠলো| অন্যদিকে কিছু একটা না করলে পরিবার চালানোও সম্ভব হচ্ছিল না| তাই নিরুপায় হয়ে এক মাস পর শহরে ফিরে আসেন এবং ছাপাখানা চালুর ব্যবস্থা করেন|
স্মৃতি হাতড়ে মোহাম্মদ শফি বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে যে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার থাকতেন তাঁর সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে আমার| সময় পেলে আমার ঘরে এসে গল্পে-কথায় সময় কাটাতেন তিনি| জানতে পারলাম সেই ভদ্রলোক আদি ভারতীয়, অভিবাসী হয়ে পাকিস্তান যান| তিনি বাঙালিদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন| পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞসহ নানা অন্যায়-অবিচার আর নির্যাতনের সমালোচনা করতেন তিনি| তাঁর এভাবে বলার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করলে তিনি বলতেন, “মরলে মরবো তাতে কী? যা সত্যি তা তো অস্বীকার করা যায় না|” তাঁর কথায় মনে কিছুটা হলেও সাহস পেয়েছিলাম|
আরও একটি কথা না বললে অকৃতজ্ঞতা দেখানো হবে যে, ভদ্রলোক (পাক ব্রিগেডিয়ার) আমার জানাশোনা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতাও দিয়েছেন| ওই মুক্তিযোদ্ধারা আমার কাছে আসতেন তাঁদের ব্যবহৃত গাড়ির তেল খরচের জন্য| একপর্যায়ে বিষয়টি ওই ব্রিগেডিয়ার জেনে যান| পরবর্তী সময়ে ওনার জন্য রাখা ড্রাম থেকে প্রচুর তেল নিয়মিত দিয়ে দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের গাড়িতে| এমনকি বেশ কয়েকবার তিনি ওইসব মুক্তিযোদ্ধার গাড়ি নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত সঙ্গে যেতেন তাঁর গাড়ি নিয়ে| তবে পাশের বাড়িতে যে অন্য একজন কর্নেল ছিল, তাঁকে এসব বুঝতে দেওয়া হতো না| কারণ হাবভাব তাঁর ভালো দেখাচ্ছিল না| যদিও জেনেছি তিনি চট্টগ্রামেরই কোনো এক বাঙালি মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন| মুক্তিযুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত তারা দুজনই ছিলেন আমাদের গলিতে| যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগের দিন অর্থাৎ ১৫ ডিসেম্বর পাক ব্রিগেডিয়ার আমাকে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন| পরদিন ১৬ ডিসে¤^র বেশ বিপর্যস্ত মনে আমার বাসায় এসে বললেন, “আমাকে তো মুক্তিবাহিনীর লোকজন পেলে মেরে ফেলবে, এখন আমি কী করি|” আমি তাঁকে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিই| কারণ সেখানে দলবদ্ধভাবে সবার সঙ্গে থাকলে আইনের আওতায় সবাই হয়তো নিরাপদে থাকবে| তিনি একা যেতে ইতস্তত করায় আমি তাঁকে পতেঙ্গার দিকে তাদের একটা ক্যাম্পের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসি|
এ ছাড়া, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাকসেনাদের হাতে আটকা পড়ে এক দিন আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার ঘটনার কথা| ওইদিন আমি ফিরিঙ্গিবাজারের ছাপাখানা থেকে বাসায় ফেরার পথে কোতোয়ালির কাছে এলে সেনাসদস্যরা আমার গাড়ি আটকায়| তারা সিডিএ ভবন থেকে পূবালী ব্যাংকের এক লোককে ধরে নিয়ে আসে ব্যাংকের ভোল্টের লকার কোথায় তা খুঁজে বের করার জন্য| পাকসেনারা আমার গাড়ির ভেতর উঠে পড়ে| একজন আমার বুকে, আরেকজন গাড়ির চালকের মাথায় অস্ত্র তাক করে ব্যাংকের লোকটিসহ অজ্ঞাতস্থানের দিকে নিয়ে যায়| ভয়ে তখন আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত| ভাবলাম, আজ কোথাও নিয়ে হয়তো মেরে ফেলবে| সম্ভবত এখন যে পোর্ট কনেকটিং রোড হয়েছে, তার কাছাকাছি কিছুটা জঙ্গলাকীর্ণ বস্তি এলাকায় যাওয়ার পর আমার উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেল| এ সময় আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো| ওদের অনুমতি নিয়ে বললাম, দেখুন আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন দূরে কোথাও, এদিকে আপনাদের বস যে আমাকে বেলা দুটার সময় গাড়িসহ সার্কিট হাউসে যেতে বলেছেন, এর কী হবে! উনিতো রেগে যাবেন| আপনাদের নাম বলুন, বস (সার্কিট হাউসের সেনা কর্মকর্তা) দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলব, আপনাদের সঙ্গে আসাতে দেরি হয়েছে’—এ কথা বলার পর সেনারা ব্যাংকের লোকটিকে নিয়ে পথে নেমে যায়| আমাকে গাড়িসহ ছেড়ে দিয়ে বললো, “কাউকে কিছু বলার দরকার নেই, সোজা সার্কিট হাউস চলে যাও|” আমরা প্রাণে বেঁচে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম আর কৃতজ্ঞতা জানালাম স্রষ্টার কাছে|’
(সৈয়দ মোহাম্মদ শফির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি ২০০৮ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে একাধিক দফায়, তাঁর এম এম আলী রোডের বাসভবনে| একই বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৬ মার্চ দুই কিস্তিতে তা ছাপা হয় প্রথম আলোর ক্রোড়পত্র আলোকিত চট্টগ্রামে| ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন|)