হোম » ২০ সন্তানের জনক জহুর আহমদ চৌধুরীর ঘর-সংসার

২০ সন্তানের জনক জহুর আহমদ চৌধুরীর ঘর-সংসার

মুহাম্মদ শামসুল হক

মুহাম্মদ শামসুল হক

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যুদ্ধকালীন পূর্বাঞ্চলীয় কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ধীন বাংলাদেশের শ্রম, সমাজকল্যাণ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক মন্ত্রী প্রয়াত জহুর আহমদ চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের নানা ইতিহাস অনেকের জানা| পাকিস্তানের এককালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও সুবিদিত| মুক্তিযুদ্ধের আগে-পরে জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছাকাছি থেকে তাঁর স্ত্রী ডা. নূরুন্নাহার জহুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার কথাও কম-বেশি জানা সচেতন মহলের- বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধকালীন| কিন্তু জহুর আহমদ চৌধুরীর পরিবারের অর্থাৎ তাঁর অন্য স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কিংবদন্তিসূলভ কিছু কথাবার্তা লোকমুখে শোনা গেলেও প্রকৃত তথ্য অনেকেরই অজানা| সাবেক এই মন্ত্রীর ছোট ছেলে জসীমউদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া সেই অজানা তথ্যের খানিকটা তুলে ধরা হলো ইতিহাসের খসড়া পাঠকদের জন্য|

জহুর আহমদ চৌধুরী

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার কাট্টলী গ্রামে ১৯১৫ সালে জহুর আহমদ চৌধুরীর জন্ম| বাবার নাম আবদুল আজিজ| পূর্ব পুরুষের পেশার ধারাবাহিকতায় আবদুল আজিজও ছিলেন জাহাজের সারেং| আবদুল আজিজের তিন স্ত্রী-জরিনা খাতুন, সুফিয়া খাতুন ও ফাতেমা খাতুন| জরিনা খাতুনের ঘরে চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান জহুর আহমদ চৌধুরী| তাঁর প্রাথমিক পড়ালেখা চলে জেঠা মাওলানা তমিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে| পড়ালেখায় ছিলেন মেধাবী। কাট্টলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া শেষে পাহাড়তলী রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন| অল্প বয়সেই তিনি তৎকালীন শ্রম রাজনীতির বেড়াজালে আটকা পড়েন| তারই ধারাবাহিকতায় মুসলিম লীগ, আওয়ামী মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগের সিড়ি বেয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হন| আজীবন ত্যাগী, নির্লোভ, শ্রমজীবী মানুষের প্রিয় জহুর আহমদ চৌধুরী তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনে চার নারীকে বিয়ে করেন| তাঁরা হলেন প্রয়াত আয়াতুন নূর, জাহানারা বেগম ওরফে পরিজান বিবি, প্রয়াত সাইয়েদা বেগম ও প্রয়াত ডা. নুরুন্নাহার জহুর| এদের তিন জনই জহুর আহমদ চৌধুরীর চলার পথে নানাভাবে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন|

‘গণমানুষের নেতা জহুর আহমদ চৌধুরী’ গ্রন্থে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও কলামনিস্ট ইদরিস আলমের ‘জনতার যোদ্ধা জহুর আহমদ চৌধুরী’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, জহুর আহমদ চৌধুরীর প্রথম বিয়ে হয় কাট্টলী গ্রামের আখতারুজ্জামানের মেয়ে আমাতুন নূরের সঙ্গে—১৯৪০ সালের ৮ জানুয়ারি| আমাতুন ছিলেন জহুর আহমদ চৌধুরীর চাচা আখতারুজ্জামানের মেয়ে অর্থাৎ সম্পর্কে চাচাতো বোন| কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে সেই স্ত্রীর মৃত্যু হয়| তাঁর কোনো সন্তান ছিল না| ফলে চৌধুরী পরিবারে তাঁর কোনো প্রভাব বা ছায়া পড়েনি|

অন্য তিন ঘরের মোট ছেলে মেয়ে ২০ জন| এর মধ্যে ১১ জন ছেলে ও ৯ জন মেয়ে| ছেলেদের বেশির ভাগই মূলত ব্যবসায়ী| চৌধুরীর দ্বিতীয় স্ত্রী জাহানারা বেগম ওরফে পরিজান বিবি দামপাড়া এলাকার তৎকালীন বিখ্যাত মনু খলিফা বাড়ির আবদুস সোবহানের কন্যা|

জাহানারা বেগমের সাথে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী এবং জসিম উদ্দিন চৌধুরী

আবদুস সোবহান ছিলেন বিত্তহীন| জহুর আহমদ চৌধুরী বিয়ের সময় তাঁর ৪০ শতক ভিটে বাড়ি জাহানারা বেগমকে দান করে দেন| জহুর আহমদ চৌধুরী পরে যে আরও দুই বিয়ে করেন তাদেরকে সেই সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দেন জাহানারা বেগম| তাঁর প্রথম কন্যাসন্তান শৈশবে মারা যায়| জাহানারা বেগম শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মতোই শহীদ জননী হলেও তাঁকে নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি| জাহানারার তিন ছেলের মধ্যে প্রথম জন সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন| শহীদ জননী জাহানারা বেগম মুক্তিযুদ্ধে তাঁর প্রথম সন্তান হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে জীবন পার করেছেন| চট্টগ্রামের জামালখান সড়কের উত্তরপ্রান্ত থেকে লালখান বাজার ইস্পাহানি মোড়ের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত শহীদ এস এস খালেদ চৌধুরী সড়কটি শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরীর স্মৃতি বহন করে চলেছে|

দ্বিতীয় ছেলে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সহযোগী, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি| তৃতীয় ছেলে মঈনুদ্দিন খালেদ চৌধুরী এক সময় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে স্বাস্থ্যগত কারণে অবসর সময় কাটাচ্ছেন|

জহুর আহমদ চৌধুরীর দ্বিতীয় স্ত্রী সাইয়েদা বেগম| তাঁর রয়েছে পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলে| এরা হলেন মেয়ে জাহেদা বেগম, স্বামী—এজহারুল হক চৌধুরী, সাজেদা বেগম, স্বামী-মাসুদ করিম সোহেল, খালেদা খানম, স্বামী—শেখ নুরুল আলম, রাশেদা বেগম রাসু, স্বামী—সিরাজুল হক চৌধুরী, শামীম আরা নিশু, স্বামী—প্রকৌশলী তৈয়বুল আলম, ছেলে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, কুতুবউদ্দিন চৌধুরী ও জসীম উদ্দীন চৌধুরী|

সাইয়েদা বেগমের সাথে পুত্র জসীম উদ্দীন চৌধুরী

জহুর আহমদ চৌধুরীর কনিষ্ঠ ছেলে (তৃতীয় স্ত্রী সাইয়েদা বেগমের ঘরের সন্তান) জসীম উদ্দীন চৌধুরীর কাছ থেকে জানা যায়, সাইয়েদা বেগমের জন্ম ১৯৩৯ সালে পাকিস্তানের নিউপোস্তকস্থানে (পেশোয়ার)| তাঁর বাবা ওবায়দুল্লাহ খান ও মা গোলতাজ বেগম| ওবায়দুল্লাহ খান ছিলেন কারা কর্মকর্তা| ১৯৪৭ সালে তিনি কোলকাতায় দায়িত্ব পালন করছিলেন| ভারত-পাকিস্তানের বিভক্তির সময় তিনি পরিবার নিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন এবং পতেঙ্গা এলাকায় শরণার্থী হিসেবে অবস্থান নেন| পরবর্তী সময়ে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে কাজ-কর্ম করে সংসার চালাতেন|

জহুর আহমদ চৌধুরী তখন চট্টগ্রামের উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা| বিশেষ করে শ্রমিক নেতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন| শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছিল তাঁর যাতায়াত ও সাংগঠনিক তৎপরতা| ১৯৫২ সালে পতেঙ্গা এলাকায় তাঁর সঙ্গে পরিচয় ঘটে ওবায়দুল্লাহ খান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে| সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ওবায়দুল্লাহর মেয়ে সাইয়েদা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন জহুর আহমদ চৌধুরী| ইদরিস আলম লিখেছেন, ‘পরিজান বিবির পর তিনি (জহুর আহমদ চৌধুরী) ঘটনাচক্রে ফখরে আফগান সীমান্ত গান্ধী খান আবদুল গফফার খানের ভ্রাতুষ্পুত্রী সাঈদা বেগমকে বিয়ে করেন|’

মায়ের কাছ থেকে শোনা কথার স্মৃতিচারণ করে জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘স্বদেশী আন্দোলনে ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী অনেক আন্দোলনের কথা আমার মায়ের মুখ থেকে শুনেছি| ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা যাত্রা মোহন সেনের স্ত্রী ব্রিটিশ বংশদ্ভূত নেলী সেনগুপ্তা যেমন আর কখনও ইংল্যান্ডে ফিরে যাননি| আমার মাও তেমনি এদেশকে ভালবেসে আর কখনোই পাকিস্তানে ফিরে যাননি| সারা জীবন আওয়ামী লীগের একজন হিসেবে বাবাকে সমর্থন করে গেছেন| ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় আমার বড় মা শহীদ জননী জাহানারা বেগম ও বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা মাহতাবউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আমি ও আমার মা তৎকালীন কূটনীতিক কে.এম সাহাবুদ্দীনের গ্রামের বাড়ি পটিয়ার কাঞ্চননগর (বর্তমানে চন্দনাইশ থানা), বাজালিয়ার পরিচিত জনের এক বাড়ি, আমাদের পুরোনো বাড়ি কাট্টলী ও বড় কুমিরা আমার ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করি| একদিন আমরা কুমিরা থেকে আসার পথে ভাটিয়ারীর সামনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আমাদের বহনকারী গাড়িকে থামার নির্দেশ দেয়| গাড়ি চালক ভয়ে নির্দেশ উপেক্ষা করে গাড়ি চালিয়ে চলে আসতে থাকলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী গুলি করতে উদ্যত হয়| আমার মা পিছন থেকে গাড়ি চালককে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন| সাথে সাথে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এসে আমাদের গাড়িচালক ও আমার চাচা নূরুউল্লাহ চৌধুরীকে মারধর করতে শুরু করে| আমার মা গাড়ি থেকে নেমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পোস্ত ভাষায় উচ্চস্বরে কি যেন বলে বকাবকি করলে পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের ছেড়ে দেয়| পরবর্তী সময়ে মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তুমি সেদিন বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে কি বলেছিলে? জবাবে মা বলেছিলেন, “তাদের বলেছিলাম, তোমরা নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করছ কেন? তারা স্বাধীনতা চাচ্ছে, তাদের স্বাধীনতাটা দিয়ে দেওয়াটাই ভাল|” ওরা জিজ্ঞেস করল, “তুমি বাঙালিদের সাথে কেন?” মা বলেছিলেন, “বাঙালির সাথে আমার বিয়ে হয়েছে, তাই তাদের সাথেই আমাকে থাকতে হবে|” শুনেছি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী চট্টগ্রামে আমাদের বাসায় এলে আমার মায়ের হাতে বানানো পরোটা খুব পছন্দ করতেন|

আমার মায়ের পরিবারের সঙ্গে মা`র যোগাযোগ ছিল না| স্বধীনতার দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৫ সালে সৌদি আরবে মা হজ করতে গেলে আমার মামা মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়| মা জানতেন না যে তাঁর ভাইও হজে গিয়েছেন| মামা কাবা শরীফের পাশে মিসফালাহ নামক একটি স্থানে দুজন মানুষকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে শুনে তাঁদের বললেন, ‘আমি চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ছিলাম এবং চট্টগ্রামের একজন বিখ্যাত মানুষ জহুর আহমদ চৌধুরীকে আমার বোন বিয়ে দিয়েছি|’ ওই দুই ভদ্রলোক তাঁকে বলেন, “ওনার পাঠান স্ত্রী আমাদের সঙ্গে ‘মেয়র হজ কাফেলা’য় এসেছেন|” এরপর আমার মায়ের সাথে মামার দেখা হয়| সেখানে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় এবং উভয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন|

২০১২ সালে আমি কানাডা থেকে আমেরিকা গেলে সেখানে মামার সঙ্গে আমার দেখা হয়| আমার সঙ্গে ছিলেন বড় বোন জেরিনা বেবী (ছোট মা ডা. নুরুন্নাহার জহুরের মেয়ে) ও তাঁর স্বামী| মামা আমেরিকায় নিউজার্সিতে তাঁর পরিবার নিয়ে বসবাস করেন| শুনেছি, সম্প্রতি পাকিস্তানের নোবেল বিজয়ী কিশোরী মালালা ইউসুফ জাই ও আমার মা একই গোত্রের| ২০০৭ সালের ২৯ এপ্রিল আমার মা মারা যান| বাবার কবরের পাশেই তাঁকে শায়িত করা হয়|

ডা. নুরুন্নাহার জহুর

জহুর আহমদ চৌধুরীর তৃতীয় স্ত্রী নূরুন্নাহার—স্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন সবচেয়ে শিক্ষিত, পেশায় চিকিৎসক| একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর মহিলা আওয়ামী লীগের একজন নেত্রী হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল|

১নং বাগমনিরাম ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার নুরুন্নাহার জহুর ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ের জননী| তাঁরা হলেন, জিয়াউদ্দিন আহমদ চৌধুরী শাহীন (মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী), হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান, কামরুদ্দিন চৌধুরী কমু (প্রয়াত), মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও শরফুদ্দিন আহমদ চৌধুরী রাজু|

হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান

মেয়েরা হলেন, জেরিনা শিরিন, স্বামী—এম এ আহাদ, জেরিনা বেবী, স্বামী—আমিনুল ইসলাম শাহজাদা, জেরিনা পারভীন, স্বামী—ডা. এম. এ. সালাম ও জেরিনা রোজী, স্বামী—আনিসুল মোরশেদ জুনায়েদ| ১৯৮৬ সালের ১২ মার্চ ডা. নূরুন্নাহার জহুর মারা যান|

জহুর আহমদ চৌধুরী মারা যাওয়ার সময় ছেলে মেয়েরা প্রায় সবাই ছিল সহায়হীন| সংসারের ভবিষ্যতের জন্য বলতে গেলে তেমন কোনো সম্পদ তিনি রেখে যাননি| পরবর্তী সময়ে সন্তানেরা যার যার অবস্থান থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকরি-বাকরি করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন|